আগরতলা, ৩ নভেম্বর : রাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় রয়েছে পাচারকারীরা। মাদক, সোনা, পশু এবং জিরা-সহ বিভিন্ন পণ্য পাচারের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে প্রশাসন। পাশাপাশি জিএসটি ফাঁকি রোধেও বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। মঙ্গলবার রাজ্য সফরে এসে এমনই জানিয়েছেন কাস্টমস ও জিএসটির উচ্চপদস্থ আধিকারিক কুল প্রকাশ সিং।
মঙ্গলবার জিএসটি ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, ত্রিপুরার ভৌগোলিক অবস্থান পাচারকারীদের কাছে একটি সুবিধাজনক ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে পাচারকারীরা মাদক, সোনা, পশু এবং জিরা-সহ নানা পণ্য পাচারের চেষ্টা করছে। তবে এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে দেওয়া হবে না। পাচার রোধে প্রশাসন আরও কঠোর মনোভাব গ্রহণ করছে এবং এ ক্ষেত্রে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জিএসটি ব্যবস্থা চালুর পর রাজ্যের কর সংগ্রহের পরিস্থিতি তুলে ধরে কুল প্রকাশ সিং জানান, ২০১৭ সালে জিএসটি চালু হওয়ার পর ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো একজন নিয়মিত কমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি রাজ্যের কাস্টমস ও জিএসটি সংক্রান্ত বিষয়গুলি দক্ষতার সঙ্গে দেখভাল করছেন। এর ফলে রাজ্যে জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জিএসটি ব্যবস্থায় পাঁচ কোটি টাকা বা তার বেশি কর প্রদানকারী ব্যবসায়ীদের বিষয়টি পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জিএসটি ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের অনিয়ম রোধে সদ্য অনুষ্ঠিত ৫৭তম জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জিএসটি সংগ্রহ বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন কুল প্রকাশ সিং। তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরায় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং স্বাভাবিকভাবেই জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
পাচার রোধ, কর ফাঁকি বন্ধ এবং উৎপাদন ও বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।

