পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে ত্রিপুরা, লক্ষ্য ১ হাজার মেগাওয়াট নবীকরণযোগ্য শক্তি

আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর : পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ত্রিপুরা ক্লিন এনার্জি রোড ম্যাপ’-এর সূচনা হল। একই সঙ্গে গ্রিন স্কিলিং প্রোগ্রাম এবং ‘ট্রান্সফর্মিং রিনিউয়েবল এনার্জি এক্সিলারেশন ইন ত্রিপুরা’ কর্মসূচিরও আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ কর্মসূচিগুলির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থা, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং আরইসি-র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ, নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এই ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই কর্মসূচিগুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, আগামী দিনে ত্রিপুরায় নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎপাদন ও ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের লক্ষ্য রাজ্যে ১ হাজার মেগাওয়াট নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসার শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্যই নয়, ভবিষ্যতের শক্তির চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশ ও রাজ্যের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে পরিচ্ছন্ন ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার উপর। তাই প্রচলিত শক্তির পাশাপাশি সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই নতুন শক্তি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিনের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রধানমন্ত্রী কুসুম কম্পোনেন্ট-বি-এর অধীনে সৌরচালিত পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে ১,৭৩৮টি এসপিভি (সোলার ফটোভোলটাইক) পাম্প সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য মেসার্স সূর্য ইন্টারন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সৌরচালিত পাম্প ব্যবহারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বিদ্যুতের উপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহারকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের শক্তি ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও আধুনিক করে তুলতে এই রোড ম্যাপ আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাবে বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *