আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর ভিলেজ কমিটি নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই সামনে এল বড়সড় রাজনৈতিক চিত্র। মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, মোট ১ হাজার ১৭৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে তিপ্রা মথা দলের প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ১৪৮ জন। অন্যদিকে বিজেপি-র ৩১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। ফলে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের লড়াইয়ে মনোনয়নপর্ব শেষ হওয়ার আগেই তিপ্রা মথার শক্তিশালী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরকদমে চলছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা স্ক্রুটিনি সম্পন্ন হয়। স্ক্রুটিনির পরই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের সংখ্যা সামনে আসে।
তিপ্রা মথা-র সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১ হাজার ১৭৯ জনের মধ্যে বিপুল সংখ্যকই তিপ্রা মথা-র প্রার্থী। দলের হিসাবে, তাদের ১ হাজার ১৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি-র ৩১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্লকভিত্তিক হিসাবেও তিপ্রা মথার দাপটের ছবি উঠে এসেছে। সিপাহীজলা জেলার জম্পুইজলা আরডি ব্লকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক তিপ্রা মথা প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। সেখানে মথার ২১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। ওই একই ব্লকে বিজেপি-র মাত্র ১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
এরপর রয়েছে খোয়াই মহকুমার পদ্মবিল আরডি ব্লক। সেখানে তিপ্রা মথা-র ১০৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। বিজেপি-র হয়ে ওই ব্লকে মাত্র ২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে খোয়াই জেলার তুলাশিখর আরডি ব্লকে তিপ্রা মথা-র ৮২ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। একই ব্লকে বিজেপি-র বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ৩ জন।
ফলে মনোনয়নপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরের হিসাবেই স্পষ্ট, টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে তিপ্রা মথা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তবে এই হিসাবই চূড়ান্ত নয়। কারণ এখনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা রয়েছে। প্রত্যাহারের পর কোন ভিলেজ কমিটির কোন আসনে কতজন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন, তা স্পষ্ট হবে। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী শুরু হবে ব্যালট পেপার ছাপার কাজ।
অর্থাৎ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১ হাজার ১৭৯ জনের জয় ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেও, প্রত্যাহারপর্ব শেষ হওয়ার পরই ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আসল লড়াইয়ের ছবি পরিষ্কার হবে।

