আগরতলা, ১৫ জুলাই: রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিপি থেকে ফের এক চিকিৎসাধীন রোগী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকায় এই সুযোগে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান রোগী।
নিখোঁজ রোগীর নাম অর্জুন ঝড়া (৬৫)। তাঁর বাড়ি খোয়াই মহকুমার লংকাপুড়া এলাকায়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১০ জুলাই সকালে পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে অভিমান ও ক্ষোভের বশে অর্জুন ঝড়া এসিড পান করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাঁকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
জিবিপি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কিরিট বিক্রম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর জন্য কিছু ওষুধ লিখে দেন। বুধবার সকালে রোগীর পুত্রবধূ ওষুধ কিনতে জিবিপি হাসপাতাল সংলগ্ন বাজারে যান। সেই সময় ওয়ার্ডে নিরাপত্তার দায়িত্বে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
ওষুধ কিনে ফিরে এসে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, নির্দিষ্ট বেডে অর্জুন ঝড়া নেই। এরপর তাঁরা কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীর কাছে রোগীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। নিখোঁজ রোগীর পুত্রের দাবি, নিরাপত্তাকর্মী মোবাইল ফোনে ব্যস্ত ছিলেন এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের রোগী, আপনারাই জানেন।”
এরপর পরিবারের সদস্যরা জিবিপি হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তন্নতন্ন করে খোঁজ চালিয়েও অর্জুন ঝড়ার কোনও সন্ধান পাননি। অবশেষে বিষয়টি জিবিপি ফাঁড়ির পুলিশের নজরে আনা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজ্যের প্রধান সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে রোগীর পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় দ্রুত নিখোঁজ বৃদ্ধের সন্ধান মিলবে বলে আশাবাদী পরিবারের সদস্যরা।

