এসসি-এসটি সংরক্ষিত শূন্যপদ পূরণ ও রোমান হরফে ককবরক পাঠ্যপুস্তকের দাবিতে টিএসএফ-র গণঅবস্থান

আগরতলা, ২৪ জুন : রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে এসসি ও এসটি সংরক্ষিত শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং রোমান হরফে ককবরক পাঠ্যপুস্তক চালুর দাবিতে বুধবার রাজধানী আগরতলায় পাঁচ ঘণ্টার গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করল তুইপ্রা স্টুডেন্টস ফেডারেশন (টিএসএফ)। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সার্কিট হাউস সংলগ্ন গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এই কর্মসূচি চলছে।

এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনের কর্মী-সমর্থক ও ছাত্রছাত্রীরা প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভস্থলে দুই দফা দাবি তুলে ধরে স্লোগান দেওয়া হয়। দাবিগুলির মধ্যে ছিল রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসসি ও এসটি সংরক্ষিত শূন্যপদ পূরণের জন্য বিশেষ নিয়োগ অভিযান (স্পেশাল রিক্রুটমেন্ট ড্রাইভ) চালু করা এবং বিদ্যালয়গুলিতে রোমান হরফে ককবরক ভাষার পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ ও চালু করা।

কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন টিএসএফ-র সহ-সভাপতি জন দেববর্মা। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে বর্তমানে ৩,১০০টিরও বেশি সংরক্ষিত শূন্যপদ পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে তপশিলি উপজাতি (এসটি) সংরক্ষিত ২,০৪৭টি এবং তপশিলি জাতি (এসসি) সংরক্ষিত ১,০৮৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তাঁর দাবি, এই পদগুলি পূরণ না হওয়ায় সংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত বহু যোগ্য চাকরিপ্রার্থী কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জন দেববর্মা বলেন, “সরকার যদি আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিশেষ নিয়োগ অভিযানের মাধ্যমে খুব দ্রুত এই শূন্যপদগুলি পূরণ করা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

ককবরক ভাষার পাঠ্যপুস্তক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের বহু ছাত্রছাত্রী রোমান হরফে ককবরক পড়াশোনা করতে আগ্রহী। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিদ্যালয় পর্যায়ে রোমান হরফে ককবরক পাঠ্যপুস্তক চালু করার দাবি জানায় টিএসএফ। তাঁর মতে, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশের স্বার্থে এই বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। বিকেল ৩টায় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর টিএসএফর একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দফতরের আধিকারিকদের উদ্দেশে স্মারকলিপি জমা দেবে। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হবে।

টিএসএফ নেতৃত্ব জানান, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই দাবিগুলি অনেক আগেই বাস্তবায়িত হতে পারত। টিএসএফ-র দাবি, সংরক্ষিত শূন্যপদ পূরণ এবং ককবরক ভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *