ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কদমতলায় কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশন, সাত দফা দাবি পেশ

কদমতলা, ১৫ জুলাই  : প্রবল ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়াকে সামনে রেখে বুধবার বিকেলে কদমতলায় বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করল কদমতলা-কুর্তি ব্লক কংগ্রেস।  সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে একসময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।

বুধবার বিকেল চারটায় কদমতলার দলীয় কার্যালয় থেকে কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।  মিছিলটি কদমতলা ব্লক কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মূল ফটকের সামনে আটকে দেয়।  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মৃদু লাঠিচার্জ করা হয় এবং কর্মীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়।  পাশাপাশি কদমতলা ব্লকের বিডিও উৎপল দাসের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।  তাঁদের অভিযোগ, গণতান্ত্রিকভাবে দাবি জানাতে গিয়েও প্রশাসনের অসহযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

পুলিশের বাধার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা কদমতলা-চুড়াইবাড়ি মূল সড়কে বসে অবরোধ শুরু করেন।  এর ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।  পরে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল কদমতলা ব্লকের বিডিও উৎপল দাসের হাতে সাত দফা দাবি-সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দেন।  স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (পিএমএওয়াই-জি)-এর আওয়াস সফট জেনারেটেড ড্রাফট প্রায়োরিটি লিস্ট প্রকাশকে কেন্দ্র করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।

কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য সুবিধাভোগীর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  শাসকদল পরিচালিত বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের আবাসন প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কদমতলা আরডি ব্লকের অন্তর্গত বিভিন্ন চা-বাগানের শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দীর্ঘদিন ধরে জমা করা হচ্ছে না।  পাশাপাশি রানিবাড়ি এবং সুনাইছড়ি (শশীমুড়া) চা-বাগানের শ্রমিকদের পাঁচ সপ্তাহের বকেয়া রেশন দ্রুত প্রদান করার দাবি জানানো হয়।

চা-শ্রমিকদের স্বার্থে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আইন অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার থাকা সত্ত্বেও বহু মহিলা শ্রমিক সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।  তাই সকল যোগ্য শ্রমিককে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অন্যান্য শ্রম আইনসম্মত সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি চা-বাগানের শ্রমিকদের জরাজীর্ণ আবাসন সংস্কারেরও দাবি তোলা হয়।

এছাড়াও বর্ষাকালে কদমতলা আরডি ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার বিষয়টি স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।  প্রবল বর্ষণের ফলে বহু গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলে দ্রুত মেরামত ও সংস্কারের দাবি জানানো হয়।  বিশেষ করে পূর্ব ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে অবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানায় কংগ্রেস।

কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই আন্দোলনের আয়োজন করা হয়েছে।  প্রশাসন দ্রুত দাবিগুলির বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের ভূমিকা এবং বিডিও-র আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কদমতলা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মানিক লাল দাস, প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাছিত চৌধুরী, জেলা কংগ্রেস সভাপতি নিরুপম দে, জেলা নেতৃত্ব দ্বিগবিজয় চক্রবর্তী, চয়ন ভট্টাচার্য, হীরালাল নাথসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থকরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *