আগরতলা, ১৫ জুলাই : পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে আগরতলা পুর নিগম কর্তৃপক্ষ মঠ চৌমুহনী এলাকায় এক বাড়ির অবৈধ নির্মাণ অংশ ভেঙে ফেলে। বুধবার পুর নিগমের টাস্ক ফোর্সের উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, মঠ চৌমুহনী এলাকার দুই ভাই চয়ন পাল ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপক পালের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা এবং ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ, সম্পত্তির একটি অংশে নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করে এবং বিষয়টি আগরতলা পুর নিগমের নজরে আসে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুর নিগম কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে দীপক পালের বাড়ির একটি অংশকে অবৈধ নির্মাণ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তা অপসারণের নির্দেশ জারি করে। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। উচ্চ আদালতে মামলার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট অবৈধ নির্মাণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশ এবং পুর নিগমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার আগরতলা পুর নিগমের টাস্ক ফোর্স মঠ চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের উপস্থিতিতে বাড়ির চিহ্নিত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের সময় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে পুর নিগমের আধিকারিকরা জানান, আগরতলা পুর নিগমের পূর্ব নির্দেশ এবং উচ্চ আদালতের রায় মেনেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপক পালের স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন দাবি তুলে বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বহুদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। তাঁর অভিযোগ, ছোট ভাই চয়ন পাল পরিবারের চলাচলের রাস্তার অংশ দখল করে নির্মাণ কাজ করতে চেয়েছিলেন। সেই নির্মাণে বাধা দেওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ির একটি অংশ ভেঙে ফেলার ফলে তাঁদের প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেশীদের কয়েকজন জানান, এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ সময়মতো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে তা আইনি জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

