আগরতলা, ৮ জুলাই : রাজধানী আগরতলায় জমি বেদখলের ঘটনা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। অসহায় ও দুর্বল মানুষের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার কিডনি রোগে আক্রান্ত যুবকের জমি দখলের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ প্রতাপগড় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আড়ালিয়া লোকনাথ আশ্রমপাড়া এলাকায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে মিনতি সাহা নামে জনৈক মহিলা আড়ালিয়ার লোকনাথ আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা ভজন দাসের কাছ থেকে একটি জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর তিনি সেখানে সীমানা প্রাচীরও নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে মিনতি সাহার মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী ওই জমির মালিকানা তাঁর ছেলে রাজেশ সাহার নামে চলে আসে।
এদিকে সম্প্রতি রাজেশ সাহার কিডনির জটিল রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা তাঁকে প্রতি তিন মাস অন্তর চেন্নাইয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসার ব্যয়ভার সামলাতে তিনি জমিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। সেই উদ্দেশ্যে গত রবিবার তিনি আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে জমিটি দেখতে গেলে সেখানে বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ।
রাজেশ সাহার অভিযোগ, ওই সময় ভজন দাস তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায় এবং জমির মালিকানা দাবি করে। পরে তিনি জানতে পারেন, টাকা-পয়সার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট জমির পরচা ভজন দাস নিজের নামে করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে রাজেশ সাহা জেলা শাসকের দফতরে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথি অনুযায়ী জমিটির বৈধ মালিক এখনও তিনিই। এরপর তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
এদিন অসুস্থ রাজেশ সাহা আরও অভিযোগ করেন, ভজন দাসের ভয়ে তিনি গত ১২ বছর ধরে নিজের বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। তিনি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর জমির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত হস্তক্ষেপের অভাবেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমি জবরদখলের ঘটনা বাড়ছে। ফলে অসহায় ও সাধারণ মানুষ নিজেদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

