আগরতলা, ৮ জুলাই : শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থার উপরই নির্ভর করছে আত্মনির্ভর ও বিকশিত ত্রিপুরার স্বপ্নপূরণ। রাজ্যের মানুষের মধ্যে কর প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে তবেই আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গঠন সম্ভব হবে এবং সেই আত্মনির্ভর ত্রিপুরাই ভবিষ্যতে বিকশিত ভারতের নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বুধবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে রাজ্য কর দফতরের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ জুলাই ত্রিপুরা রাজ্য কর সংস্থার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী চলতি বছর সংস্থাটি সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই উপলক্ষ্যে বুধবার প্রজ্ঞা ভবনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, কর দফতরের সচিব, অধিকর্তা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজ্যে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৯৫৪ জন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৩৯৬ জনে। তাঁর মতে, জিএসটি অডিটের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার ফলেই করদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যের স্টেট জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৬৪৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তুলনায় ১২.১১ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধি রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং কর ব্যবস্থার দক্ষতার প্রতিফলন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কর দফতর বর্তমানে একটি করবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের রাজস্ব সংগ্রহকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা রাজ্যকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভর রাজ্য ছাড়া আত্মনির্ভর দেশ গঠন সম্ভব নয়। তাই কর প্রদানের সংস্কৃতি ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ে উঠলেই বিকশিত ত্রিপুরা বাস্তবায়িত হবে এবং সেই ত্রিপুরা বিকশিত ভারত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় ১৯৭৬ সালে রাজ্য কর দফতরের সূচনা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭৬ সালে ত্রিপুরার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ লক্ষ ৪৪ হাজার এবং সে সময় রাজ্যের কর রাজস্বের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৭৯ কোটি টাকা। বর্তমানে রাজ্যের আর্থিক পরিধি ও রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরই প্রতিফলন।
সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে কর দফতরের দীর্ঘ পথচলা, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে করদাতাদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

