আগরতলা, ৮ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছরের কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে বুধবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হল ‘বার্তালাপ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর একটানা ১২ বছরের শাসনকালকে “বিশ্বাস, বিকাশ ও জনকল্যাণের ১২ বছর” বলে অভিহিত করেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য।
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পিআইবি-র আগরতলা শাখার আধিকারিকরা, আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। শ্রমিক, কৃষক, নারী, যুবক এবং সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, একসময় দেশের দরিদ্র মানুষ কল্পনাও করতে পারতেন না যে তাঁদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার মাধ্যমে কোটি কোটি গরিব ও প্রান্তিক মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকারও বেশি আমানত জমা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাংসদ বলেন, শুরুতে অনেকেই জিরো ব্যালেন্স ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য বুঝতে পারেননি। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
রাজীব ভট্টাচার্য আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নতুন মর্যাদা অর্জন করেছে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে ভারত এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বের দরবারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ভারত আবার জগতের শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করবে” — এই স্বপ্নকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা এবং জনকল্যাণের সমন্বয়ে আগামী দিনে ভারত আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠির শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অতিথিরা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

