তেলিয়ামুড়া , ৮ জুলাই : টানা দু-তিন দিনের প্রবল বর্ষণে ফুলেফেঁপে উঠেছে খোয়াই নদী। নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদ ও সংলগ্ন গ্রামাঞ্চলের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যেই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক পরিবারের বসতঘরে নদীর জল প্রবেশ করায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকা, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দশমী ঘাট এলাকা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি নগর এলাকাসহ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃষাবাড়ি, মোহরছড়া ও কল্যাণপুরের নদীতীরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িতে ইতিমধ্যেই জল ঢুকে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার তাদের আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
নদীর জলস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নদীর একেবারে পাড়ঘেঁষা এলাকাগুলিতে বসবাসকারী মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেকেই স্বেচ্ছায় আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক সরকার এবং ডেপুটি সিইও প্রদীপ কুমার সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন। তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলা দল, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা দফতরকে সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক সরকার জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পুর পরিষদ এলাকায় ইতিমধ্যেই সাতটি শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য মোহরছড়া স্কুলেও একটি পৃথক শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সেখানে স্থানান্তরিত করা হবে এবং তাদের জন্য খাবার, পরিশ্রুত পানীয় জল, চিকিৎসা পরিষেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকযোগে প্রচার চালিয়ে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে এসে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।

