আগরতলা, ৫ জুলাই : স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (এসএমএ) নামক বিরল ও জটিল জেনেটিক রোগে আক্রান্ত আগরতলার বাধারঘাট এলাকার দুই বছরের শিশুকন্যা মনশ্রী চৌধুরীর উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। রবিবার তিনি মনশ্রীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি মনশ্রীর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে একটি আবেদনপত্রও পরিবারের হাতে তুলে দেন।
মনশ্রী বর্তমানে স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (এসএমএ) রোগে আক্রান্ত। এটি একটি বিরল জেনেটিক রোগ, যার ফলে শরীরের পেশিগুলি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগীর স্বাভাবিক চলাফেরা ও শারীরিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ভারতে সীমিত কয়েকটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে এর চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ইনজেকশনটি ভারতে উৎপাদিত হয় না। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং এর মূল্য প্রায় ১৬ থেকে ১৮ কোটি টাকা, যা সাধারণ পরিবারের পক্ষে বহন করা কার্যত অসম্ভব।
মনশ্রীর অসুস্থতার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ত্রিপুরাজুড়ে মানবিক উদ্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে—গ্রাম, শহর, পাহাড় ও সমতল এলাকায়—স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ মনশ্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ অভিযানে নেমেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার মনশ্রীর বাড়িতে পৌঁছে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানের আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি পরিবারের হাতে তুলে দেন।
যদিও এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চাননি, তবে মনশ্রীর জীবন বাঁচাতে রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষের মানবিক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর মতে, সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগই এই কঠিন লড়াইয়ে শিশুটির পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।
এদিকে, আগামী সোমবার এজিএমসি-র নিউরোলজি বিভাগ মনশ্রীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে মনশ্রীকে দিল্লির এইমস-এ রেফার করা হতে পারে।
মনশ্রীর চিকিৎসার বিপুল ব্যয় মেটাতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাই এখন পরিবারের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।

