আগরতলা, ৫ জুলাই : শিক্ষা অধিকার আইন (আরটিই) কার্যকর হওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাধ্যতামূলক টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে রবিবার রাজধানী আগরতলায় যৌথভাবে মিছিল ও পথসভার আয়োজন করল ত্রিপুরা সরকারি শিক্ষক সমিতি (এইচবি রোড) এবং ত্রিপুরা বেসরকারি শিক্ষক সমিতি (এইচবি রোড)।
এদিনের মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করে প্যারাডাইজ চৌমুহনী এলাকায় এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় শিক্ষক সংগঠনের সহ-সভাপতি তথা নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব শেখর মণ্ডল, ত্রিপুরা সরকারি শিক্ষক সমিতি (এইচবি রোড)-এর সাধারণ সম্পাদক আশীষ চৌধুরীসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতা।
বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালে শিক্ষা অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে টেট পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু ওই আইন প্রণয়নের আগেই যাঁরা বৈধভাবে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাঁদের উপর পরবর্তীকালে প্রবর্তিত এই শর্ত আরোপ করা ন্যায়সঙ্গত নয়। তাই ২০০৯ সালের পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টেট পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।
ত্রিপুরা সরকারি শিক্ষক সমিতি (এইচবি রোড)-এর সাধারণ সম্পাদক আশীষ চৌধুরী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ শিক্ষা অধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী হলেও, আইন কার্যকর হওয়ার বহু আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ প্রয়োগ করা হলে তা বাস্তবসম্মত হবে না। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রয়োজনে একটি অধ্যাদেশ জারি করে পরে সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে। সেই দাবিকেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে এদিনের মিছিল ও পথসভার আয়োজন করা হয়েছে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, যদি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হুবহু কার্যকর করা হয়, তবে সারা দেশে বিপুল সংখ্যক অভিজ্ঞ শিক্ষক চাকরির অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। এতে বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠবে এবং বিদ্যালয়গুলির স্বাভাবিক পাঠদান ব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রিপুরাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁরা দাবি করেন।
শিক্ষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০৯ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় আগামী দিনেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে বৃহত্তর কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে।

