আগরতলা, ২৩ জুন : আমতলি থানাধীন কাঁঠালতলি এলাকার চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধর ওরফে সপুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে জালে তুলে তদন্তে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে এনসিসি থানার অধীন অভয়নগর ফাঁড়ির পুলিশ ইন্দ্রনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে কাঁঠালতলি এলাকার বাসিন্দা সমীর দাস স্কুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযোগের তীর ছিল এলাকারই বাসিন্দা স্বপন সূত্রধর ওরফে সপুর দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমীর দাস ও স্বপন সূত্রধরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে আমতলি থানার পুলিশ। পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে অভিযুক্ত আগরতলা শহরের মধ্যেই আত্মগোপন করে রয়েছে। এরপর পূর্ব আগরতলা, পশ্চিম আগরতলা ও এনসিসি থানার পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ইন্দ্রনগরের একটি বাড়িতে হানা দেয় এনসিসি থানার অধীন অভয়নগর ফাঁড়ির পুলিশ। সেখান থেকেই স্বপন সূত্রধরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে এনসিসি থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। মঙ্গলবারই পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সমীর দাস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কাঁঠালতলি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

