আগরতলা, ২৮ অক্টোবর : ইন্ডি জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির পাল্টা জবাব দিতে ময়দানে নামছে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ৩১ অক্টোবর রাজধানী আগরতলায় ধিক্কার মিছিল সংঘটিত করবে শাসক দল। এই মিছিলের মাধ্যমে বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর স্বপক্ষে জোরালো দাবি তুলে ধরবে বিজেপি। বুধবার এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়।
উল্লেখ্য, এসআইআর বাতিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর আগরতলায় মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ডি জোট। বিরোধীদের এই কর্মসূচির ঠিক পরের দিনই পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। ফলে পরপর দু’দিন রাজধানীর রাজনৈতিক পরিসরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপি-র এই ধিক্কার মিছিলকে সফল করার লক্ষ্যে বুধবার রাজ্য অতিথিশালায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়, মন্ত্রী রতনলাল নাথ, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই বৈঠকে আগামী ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচির প্রস্তুতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং মিছিলকে সফল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায় বলেন, বিরোধীরা জোর করে ক্ষমতা দখলের মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। বিরোধীদের এই ধরনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিবাদ জানাতেই বিজেপি ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের ধিক্কার মিছিল থেকে বিরোধীদের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে এবং তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে এসআইআর-এর স্বপক্ষে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার কথাও জানান বিজেপি সভাপতি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পক্ষে জনমত তুলে ধরবে দল। অন্যদিকে, এসআইআর বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে ইন্ডি জোটের কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সরগরম হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, বুধবারের বৈঠকে আসন্ন নগর নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিষেক দেবরায়। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আগামী রবিবার পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক চলবে। প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও নির্বাচনী কৌশল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
একদিকে ইন্ডি জোটের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি, অন্যদিকে তার পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে বিজেপি-র শক্তি প্রদর্শনের উদ্যোগ—সব মিলিয়ে অক্টোবরের শেষ লগ্নে আগরতলার রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

