বক্সনগর, ২০ জুন : ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন সরকারি জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখতে শনিবার সেপাহিজলা জেলার বক্সনগর ব্লকের মধ্য বক্সনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিমপাড়া এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। প্রশাসন, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ বসতি ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়ার সংলগ্ন নির্দিষ্ট এলাকা খালি রাখা বাধ্যতামূলক। সীমান্তে নজরদারি, টহল এবং কাঁটাতারের রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে ওই এলাকায় কোনও ধরনের স্থায়ী বসতি বা অবৈধ নির্মাণ অনুমোদিত নয়। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা বসতিগুলি সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে জেলা শাসকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও বহু পরিবার তা মানেনি বলে প্রশাসনের দাবি। ফলে শনিবার দুপুর থেকে আইনানুগভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়।
অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য গোটা পশ্চিমপাড়া এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাজ্য পুলিশ, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর), সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং বিএসএফ-র ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিপুল সংখ্যক জওয়ান মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রশাসনের আধিকারিকরা একে একে কাঁটাতারের সংলগ্ন সমস্ত অবৈধ বাড়িঘর ও স্থাপনা অপসারণ করেন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ-র বক্সনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুনীল সিং, জি-ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর বিট্টু কুমার, কলমচৌড়া থানার এসআই রাম কিষাণ, অতিরিক্ত মহকুমা শাসক (এসডিএম), ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসিএম) সহ জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গোটা উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। যদিও উচ্ছেদের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক পরিবার দাবি করেছে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিল এবং আকস্মিক উচ্ছেদের ফলে তাঁরা কার্যত গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পক্ষ থেকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে প্রশাসনের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপ রোধে কাঁটাতারের সংলগ্ন এলাকা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রাখা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
প্রশাসনের জনৈক আধিকারিক জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সরকারি জমি সংরক্ষণের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কেউ সরকারি জমি দখল করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

