ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমাতে বড় পদক্ষেপের ভাবনা, পার্কিং না থাকলে বাড়ি নির্মাণে অনুমতি নয়!

আগরতলা, ১০ অক্টোবর : রাজধানী আগরতলা-সহ গোটা রাজ্যে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের সংখ্যা এবং পার্কিং সমস্যার মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বহুতল বাড়ি নির্মাণে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মাল্টিলেভেল কার পার্কিং গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। শনিবার এডি নগর পুলিশ গ্রাউন্ডে আয়োজিত সড়ক সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রাজধানী আগরতলায় ক্রমবর্ধমান যানবাহনের সংখ্যা শহরের যান চলাচল ও পার্কিং ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় যানজটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের অভাবও বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পার্কিং পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুরাতন মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় গড়ে ওঠা মাল্টিলেভেল কার পার্কিংয়ের আদলে বটতলা ও নেতাজি চৌমুহনিতেও মাল্টিলেভেল কার পার্কিং গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাগুলিতে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা গেলে সড়কের উপর গাড়ি রাখার প্রবণতা কমবে এবং যান চলাচল আরও স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

বহুতল বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রেও পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগরতলায় যেসব বড় বড় বাড়ি তৈরি হচ্ছে, সেগুলিতে গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকা প্রয়োজন। পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট বাড়ি নির্মাণের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে পূর্ত দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই এমন বাড়ির মালিকদের কাছে গাড়ি বিক্রির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।

ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কমানোর বিষয়টিও রাজ্য সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অনেক বাড়িতে একটি গাড়ি থাকলেই প্রয়োজন মিটতে পারে, অথচ সেখানে একাধিক গাড়ি রাখা হচ্ছে। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধি করা যায় কি না, অথবা অন্য কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগরতলা, উদয়পুর ও ধর্মনগরে তিনটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই শহরগুলিতে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে পৃথক লেন তৈরি করে কীভাবে যানবাহন পরিচালনা করা যায়, তা নিয়েও কাজ চলছে। শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিকল্পিত যান চলাচল নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

সড়ক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়েও পরিবহণ দফতর ও ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সড়ক সুরক্ষা কর্মসূচি পরিচালনা করা হলেও সেগুলির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পাশাপাশি, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ শারীরিক যাচাই বা ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করার পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বহুতল বাড়িতে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নতুন মাল্টিলেভেল কার পার্কিং নির্মাণ এবং স্যাটেলাইট টাউনে পরিকল্পিত যান চলাচল—এই একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে যানজট মোকাবিলার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির উপর অতিরিক্ত কর আরোপ কিংবা পার্কিংবিহীন বাড়ির ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *