আগরতলা, ১৩ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন-এর কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে আগরতলায় সংগঠনের কার্যালয়ে স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। রবিবার আয়োজিত এই রক্তদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, সদস্য ও কর্মীরা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উদ্যোগে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা উঠে আসে।
রক্তদান শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রযুক্তির সংযোজন ঘটছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহারও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে এর কার্যকারিতা, সম্ভাবনা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করছে, তেমনই এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি। নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং তার ইতিবাচক দিককে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সম্পর্কেও সমাজকে অবহিত হতে হবে।
এদিন মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্বের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, একজন মানুষের জীবন কেবলমাত্র নিজের স্বার্থ, প্রয়োজন ও ব্যক্তিগত সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সেই জীবনের পূর্ণতা আসে না। সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং বিপদের সময়ে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।
রক্তদানকে এই মানবিক দায়বদ্ধতার অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি রক্তদান করলে সেই রক্ত কারও পরিচিত কিংবা অপরিচিত মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। একজনের স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্ত সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের রক্তদানের অভিজ্ঞতার কথাও এদিন তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে যুবসমাজের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তাঁর প্রথম রক্তদান। ১৯৯৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত সুযোগ পেলেই তিনি রক্তদান করে আসছেন বলে জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী।
এদিনের কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতৃত্ব ও সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের মধ্য দিয়ে কর্মচারীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার আরও একবার সামনে উঠে আসে।

