‘ভূমির অধিকার না দিলে জোট নয়’—বিজেপি-র সঙ্গে জোটের জল্পনায় জল ঢাললেন প্রদ্যোৎ

আগরতলা, ২ সেপ্টেম্বর : জনজাতিদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত না করা হলে কোনও রাজনৈতিক জোট নয়। আসন্ন টিটিএএডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে তিপ্রা মথার সম্ভাব্য নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে, ঠিক সেই সময়ই সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিলেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন। তাঁর বার্তায় স্পষ্ট—রাজনৈতিক সমীকরণের আগে জনজাতিদের ভূমির অধিকারই তাঁর কাছে অগ্রাধিকার।

বুধবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন প্রশ্ন তোলেন, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড কিংবা বোড়ো ও ডিমাসা জনগোষ্ঠীর যদি ভূমির অধিকার থাকে, তাহলে ত্রিপুরার জনজাতিদের সেই অধিকার থাকবে না কেন? একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের জনজাতিরা কি বিশেষভাবে পৃথক?

জেন-জি প্রজন্মের জনজাতিদের উদ্দেশে তিপ্রা মথা সুপ্রিমোর বার্তা, রাজনীতির থেকেও বড় বিষয় হল ভূমির অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—জনজাতিদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় কোনও জোট নয়।

প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের এই বক্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বা টিটিএএডিসি নির্বাচনের ফলাফলকে সামনে রেখেই বিজেপি-র পক্ষ থেকে তিপ্রা মথার সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে তিপ্রা মথার সঙ্গে সম্ভাব্য নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে বিজেপি-র অন্দরেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ-সহ দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বর্তমানে রাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বুধবার সকালে প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দলের অভ্যন্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

আর সেই বৈঠক চলাকালীন সময়েই সামাজিক মাধ্যমে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের ‘ভূমির অধিকার না দিলে জোট নয়’ বার্তা সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি তিপ্রা মথা-বিজেপি জোটের পথে প্রধান শর্ত হিসেবে উঠে আসছে জনজাতিদের ভূমির অধিকার? নাকি এটি বিজেপি-র সঙ্গে সম্ভাব্য নির্বাচনি সমঝোতার আগে তিপ্রা মথা সুপ্রিমোর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশল?

প্রদ্যোৎ কিশোরের বক্তব্যে অবশ্য একটি বিষয় পরিষ্কার—শুধুমাত্র আসন সমঝোতা কিংবা ক্ষমতার রাজনৈতিক সমীকরণকে সামনে রেখে তিপ্রা মথা সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। জনজাতিদের দীর্ঘদিনের ভূমির অধিকার এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রশ্নকে অগ্রাধিকার দিয়েই যে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তাঁর বার্তায় সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।

ফলে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বিজেপি ও তিপ্রা মথার সম্ভাব্য জোট এখন আরও জটিল সমীকরণের মুখে। একদিকে বিজেপি-র পক্ষ থেকে সমঝোতার উদ্যোগ, অন্যদিকে তিপ্রা মথা সুপ্রিমোর ভূমির অধিকারকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান—এই দুইয়ের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কীভাবে সমীকরণ তৈরি হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের এই বার্তা আগামী দিনের নির্বাচনি রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *