আগরতলায় আখাউড়া রোডে শাহজাহান মিয়ার বাড়ি ও দোকানে ইডি-র অভিযান

আগরতলা, ১৯ আগস্ট : রাজধানী আগরতলায় আখাউড়া রোড সংলগ্ন এলাকায় কথিত বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে শাহজাহান মিয়ার বাড়ি ও দোকানে বুধবার সকালে অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। একইসঙ্গে তাঁর বিপুল সম্পত্তির উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে বলেও জানা গেছে। তবে অভিযান শেষে ঠিক কী কী উদ্ধার বা নথিভুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

জানা গেছে, রাজধানীর বটতলা বাজার এলাকার একটি স্টেশনারি দোকানের মালিক হিসেবে পরিচিত শাহজাহান মিয়ার বাড়ি রামনগরের আখাউড়া রোড সংলগ্ন পিসি ইটভাট্টা এলাকার কাছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি, গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তির মালিক হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। বিপুল সম্পত্তির প্রকৃত উৎস কী, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরদারিতে ছিলেন শাহজাহান মিয়া। বিদেশ থেকে কর ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বা পণ্য অবৈধ পথে রাজ্যে আনার সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কাপড়ের চালান আনা এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য পাচারের মতো বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।

এদিকে, কিছুদিন আগে রাতের দিকে রাজধানীর বটতলা ফিটিং বাজার এলাকায় ইডির আধিকারিকদের গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কথিত চোরাকারবারিদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি। সেই নজরদারির ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে শাহজাহান মিয়ার বটতলার দোকান এবং আখাউড়া রোড সংলগ্ন বাড়িতে একযোগে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় ইডির আধিকারিকরা বাড়ি ও দোকানের বিভিন্ন নথিপত্র, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখেন বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের নথি এবং কথিত বেআইনি সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। ওই সম্পত্তি কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানতে শাহজাহান মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা তাঁর ব্যাংক লেনদেন, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের নথি, ব্যবসায়িক কার্যকলাপ এবং বিদেশ ও সীমান্তপথে আর্থিক বা পণ্য লেনদেনের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তকেন্দ্রিক কোনও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তবে, অভিযানে ঠিক কী কী সামগ্রী, নথি বা সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে এবং তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে ইডি-র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর বিপুল সম্পত্তির প্রকৃত উৎস সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী বক্তব্যের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *