আগরতলা, ৩০ আগস্ট : ভারতীয় জনতা পার্টি কার্যকর্তাদের দল। আর সেই কার্যকর্তাদের সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত করে কীভাবে কাঙ্ক্ষিত কাজ হাসিল করা যায়, সেই শিল্প জানেন বিজেপি-র নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও লোকসভা র বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই আজ তিনি দলের সর্বভারতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছেছেন। রবিবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে বিপ্লব কুমার দেবের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন সভায় এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
ভারতীয় জনতা পার্টির নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর রবিবার প্রথমবারের মতো রাজ্যে আসেন বিপ্লব কুমার দেব। তাঁকে ঘিরে এদিন আগরতলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আগরতলা বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে প্রদেশ বিজেপি-র উদ্যোগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, প্রাক্তন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য এবং বর্তমান প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। এছাড়াও রাজ্যের বিজেপি-র মন্ত্রী, বিধায়ক এবং প্রদেশ নেতৃত্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা-নেত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজকের দিনটি ত্রিপুরা ও রাজ্যবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের। ত্রিপুরা থেকে বিপ্লব কুমার দেবকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বিপ্লব কুমার দেবের সাংগঠনিক দক্ষতার বিশেষ প্রশংসা উঠে আসে। তিনি বলেন, বিজেপিকে কার্যকর্তাদের দল বলা হয়। কিন্তু শুধু কার্যকর্তা থাকলেই হয় না, তাঁদের সাংগঠনিক কাজে কীভাবে সঠিকভাবে নিয়োজিত করতে হয় এবং তাঁদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সেই শিল্পকলা বিপ্লব কুমার দেব জানেন। আর সেই কারণেই তিনি দলের সর্বভারতীয় স্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যদিকে, রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিপ্রা মথার সঙ্গে বিজেপি-র আলোচনা প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার দেব।
তিনি জানান, তিপ্রা মথার সঙ্গে আলোচনা চালানোর জন্য দিল্লি থেকে দু’জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ইতিমধ্যেই মথা নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়নি। আলোচনা চূড়ান্ত হলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
তিপ্রা মথার সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব কুমার দেব বলেন, তাঁর কাছে প্রথম পছন্দ বিজেপি দল। অন্যদিকে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের কাছে তাঁর নিজের দলই প্রথম পছন্দ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন জানিয়েছেন, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কাজ করবেন। সেই কারণেই বর্তমানে তিপ্রা মথা বিজেপি-র সঙ্গে সরকারে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিপ্লব কুমার দেবের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নকে ঘিরে এদিন রাজ্য বিজেপির অন্দরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিমানবন্দর থেকে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন—দুই জায়গাতেই কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্যে উঠে আসে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা।
রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য এবং বর্তমান প্রদেশ সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়ও সভায় বক্তব্য রাখেন। তাঁদের বক্তব্যেও বিপ্লব কুমার দেবের নতুন দায়িত্বকে ত্রিপুরার বিজেপি-র জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সব মিলিয়ে বিপ্লব কুমার দেবের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রথম রাজ্য সফরকে কেন্দ্র করে রবিবার আগরতলায় বিজেপি-র সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন দেখা যায়। একইসঙ্গে তিপ্রা মথার সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে তাঁর বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

