জনগণের জীবন-সম্পত্তি রক্ষায় সততা-নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৩০ আগস্ট : সরকারি চাকরি শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা। বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কর্মরতদের মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। তাই সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়কে সামনে রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য নবনিযুক্ত অগ্নিনির্বাপক দফতরের ড্রাইভারদের প্রতি আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

রবিবার আগরতলায় মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে রাজ্য সরকারের অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা দফতর এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট দফতরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অফার বিতরণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠান থেকেই দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমার মনু-বনকুল ফায়ার স্টেশনের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ)  মানিক সাহা, মন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, সংশ্লিষ্ট দফতরের অধিকর্তা ও সচিবসহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্বে অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবা দফতরে সদ্য নির্বাচিত ১৬ জন ড্রাইভারের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। নবনিযুক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরি পাওয়া মানেই জনগণের সেবা করার সুযোগ পাওয়া। অগ্নিনির্বাপক দফতরের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং এই পেশার সঙ্গে মানবিক দায়িত্বও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবার কর্মীদের নিজেদের এবং সহকর্মীদের জীবন রক্ষার পাশাপাশি বিপদের সময় সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় সামনে থেকে কাজ করতে হয়। সংকটের মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এই পেশার মূল দায়িত্ব।

নবনিযুক্ত ড্রাইভারদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীরা যে বেতন পান, তা জনগণের কাছ থেকে সংগৃহীত করের অর্থ থেকেই প্রদান করা হয়। ফলে জনগণের অর্থে পাওয়া এই চাকরির মর্যাদা রক্ষা করা এবং কাজের মাধ্যমে জনগণের প্রতি সেই দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য। সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি নবনিযুক্তদের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিনের অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কিল ডেভেলপমেন্ট দফতরের উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৮০ জন মহিলার হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলাদের স্বনির্ভর হয়ে ওঠার সুযোগ আরও প্রসারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদানের মাধ্যমে মহিলাদের নিজস্ব কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মনু-বনকুলে নতুন ফায়ার স্টেশন চালু হওয়ায় দক্ষিণ ত্রিপুরার ওই অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে নতুন কেন্দ্রটি। মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফায়ার স্টেশনটির যাত্রা শুরু হয়।

মনু-বনকুল ফায়ার স্টেশন চালুর ফলে রাজ্যে অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫৩। প্রত্যন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অগ্নিনির্বাপক পরিষেবার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *