আগরতলা, ১১ জুলাই : রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং শিল্পোন্নয়নের বাস্তব চিত্র নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সরব হলো ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। শনিবার আগরতলার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলের নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার উন্নয়ন ও বিনিয়োগের নামে শুধুমাত্র প্রচারমুখী রাজনীতি করছে, অথচ বাস্তবে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, এসসি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন দাস এবং যুব কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি নীলকমল সাহা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, দেশ বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছে। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টেও সেই পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার “ডেসটিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ” আয়োজন করে মূলত প্রচারের রাজনীতি করছে এবং বাস্তব সমস্যাগুলি থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, অতীতেও রাজ্যে একাধিকবার বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বিজনেস সামিট ও বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেইসব সম্মেলনের ফলস্বরূপ কতগুলি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, কত কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবে হয়েছে এবং কতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে, সে বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও পূর্ণাঙ্গ বা স্বচ্ছ রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
প্রবীর চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, পূর্ববর্তী বিজনেস সামিটগুলির প্রকৃত সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব না দিয়ে নতুন করে কনক্লেভ আয়োজনের যৌক্তিকতা কোথায়। তাঁর মতে, কর্মসংস্থানের অভাবে ত্রিপুরার অসংখ্য যুবক-যুবতী বাধ্য হয়ে অন্যান্য রাজ্য এমনকি বিদেশেও কাজের সন্ধানে পাড়ি দিচ্ছেন, যা রাজ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, সবজি চাষি এবং রাবার চাষিরা এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাননি। কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে না বলেও তিনি দাবি করেন।
জনগণনা বা সেন্সাসের কাজ নিয়েও প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, এই কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ না করে চুক্তিভিত্তিকভাবে বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়োগ করা হলে একদিকে যেমন জনগণনার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে, অন্যদিকে বহু শিক্ষিত বেকার সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই “ডেসটিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ” আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এটি মূলত মানুষের দৃষ্টি প্রকৃত সমস্যা থেকে সরিয়ে নেওয়ার এবং বেকার যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।
প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী সমস্ত বিজনেস সামিট ও বিনিয়োগ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, লুটপাট এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে রাজ্যের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রবীর চক্রবর্তী।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য কংগ্রেস নেতারাও রাজ্যের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের সমস্যা নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন এবং এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

