বায়ো টেকনোলজি দফতরের কোটি টাকা তছরুপ কাণ্ডে গ্রেফতার আরও এক, ফ্রিজ চারটি অ্যাকাউন্ট

আগরতলা, ২০ জুন : বিজ্ঞান ও পরিবেশ দফতরের অধীনস্থ বায়ো টেকনোলজি বিভাগের তহবিল থেকে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলা তদন্তে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এনসিসি থানার পুলিশ। ধৃত অভিযুক্তের নাম সঞ্জীব দেব। তিনি রাজধানী আগরতলায় উজান অভয়নগর এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বায়ো টেকনোলজি বিভাগের সরকারি তহবিল থেকে ধাপে ধাপে ১ কোটি ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা চারটি পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত হরিধন চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা উজান অভয়নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সঞ্জীব দেবকে আটক করেন।

তদন্তে জানা গেছে, সঞ্জীব দেবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৮ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই অর্থের উৎস এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে তার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।

এনসিসি-র এসডিপিও সুব্রত বর্মন সাংবাদিকদের জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বায়ো টেকনোলজি দফতরের তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা চারটি ভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব না হলেও সংশ্লিষ্ট চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই ফ্রিজ করা হয়েছে, যাতে অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা না যায়। পাশাপাশি অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরকারি দফতরের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেহাত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলসহ বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কোষাগারের অর্থ কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ঘটনার সঙ্গে একটি সুসংগঠিত চক্র জড়িত থাকতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ব্যাঙ্কিং নথিপত্র খতিয়ে দেখে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *