আগরতলা, ২ জুলাই : গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল ত্রিপুরায়। দীর্ঘদিনের মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (এমজিএনরেগা)-এর পরিবর্তে বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল বিকশিত ভারত রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (ভিবি-জি রামজি)। প্রকল্পের শুরুতেই রাজ্যের জন্য ১ হাজার ৪১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রক। পাশাপাশি প্রকল্পে নিযুক্ত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ২৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে পশ্চিম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত জন সম্মেলনে নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায়। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুসারে একই দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই উপলক্ষে জন সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এমজিএনরেগার পরিবর্তে বিকশিত ভারত রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (ভিবি-জি রাম জি) আইন প্রণয়ন করে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আইনটি দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে এবং ত্রিপুরাতেও এদিন থেকে তার বাস্তবায়ন শুরু হল।
মন্ত্রী জানান, নতুন প্রকল্পে শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দৈনিক মজুরি ২৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম পর্যায়েই ত্রিপুরার জন্য ১,০৪১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর, সক্ষম এবং দুর্যোগ-সহনশীল গ্রামীণ ভারত গড়ে তোলা। গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি এবং টেকসই সম্পদ সৃষ্টি এই প্রকল্পের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতগুলিকে সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার, গ্রাম উন্নয়ন দফরের আধিকারিকসহ প্রশাসনের অন্যান্য পদস্থ কর্তারা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক গ্রামীণ শ্রমিকও উপস্থিত ছিলেন।
নতুন প্রকল্প চালুর ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা।

