তেলিয়ামুড়া, ২২ সেপ্টেম্বর : খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া থানাধীন মাইগঙ্গা পঞ্চায়েতের ডিএম কলোনী এলাকায় ১৪ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযোগ, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে তেলিয়ামুড়া থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে ধৃতকে খোয়াই জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি এবং ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন-এর তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটি যৌথ প্রতিনিধি দল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পরিবারের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন সংগঠনের নেতৃত্বরা।
এই যৌথ প্রতিনিধি দলে ছিলেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতির রাজ্য কমিটির নেত্রী গায়ত্রী দত্ত, তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটির সভানেত্রী প্রভা দাস ভৌমিক, জেলা কমিটির নেত্রী ঝর্না দেববর্মা এবং তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটির নেত্রী মমতা দাস। অন্যদিকে, ডিওয়াইএফআই-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক অর্ধেন্দু ঘোষ, সভাপতি বিশ্বজিৎ ভৌমিক এবং বিভাগীয় কমিটির সদস্য রাজেশ দেব।
সংগঠনের নেতৃত্বদের বক্তব্য, শিশু ও নাবালিকাদের সাথে এ ধরনের অপরাধ সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এলাকায় এই ধরনের সামাজিক অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নির্যাতিতা নাবালিকা যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনগুলির নেতৃত্বরা। তাঁদের দাবি, নির্যাতিতার পরিবার যাতে কোনও ধরনের চাপ বা হয়রানির শিকার না হয় এবং নাবালিকার নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকে, সেদিকেও প্রশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

