মদ্যপ অবস্থায় মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগ, পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ এলাকাবাসী

আগরতলা, ২২ সেপ্টেম্বর : মদ্যপ অবস্থায় মা-বাবাকে নিয়মিত মারধর এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে আগরতলা শহরের বড়দেওয়ালী এলাকার এনবিআরসি এলাকার বাসিন্দা তন্ময় রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, তন্ময় রায় প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি নিজের মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তাঁদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ঘটনা চলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি তন্ময় রায় তাঁর মাকে মারধর করেন। ঘটনায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়ে রক্তাক্ত হন বলে অভিযোগ। মায়ের চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীদের বক্তব্য, পারিবারিক বিষয় হলেও দিনের পর দিন এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকায় বর্তমানে তা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার উপরও প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ মা-বাবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তের আচরণের কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেই দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেন। ডেপুটেশনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

ডেপুটেশন প্রদান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাঁরা কোনওভাবেই এলাকায় অশান্তি বা পরিবারের উপর নির্যাতনের ঘটনা মেনে নিতে রাজি নন। তাঁদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একইসঙ্গে অভিযুক্তের মা-বাবা যাতে ভবিষ্যতে নিরাপদে থাকতে পারেন, সেজন্য তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *