রানীরবাজারের বৃদ্ধনগরে চাঞ্চল্য, থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ পুত্র ও পুত্রবধূকে

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর : টাকার লোভে গর্ভধারিণী মাকে হত্যার পর রাতের অন্ধকারে গোপনে মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রানিরবাজার থানাধীন বৃদ্ধনগর এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতার পুত্র শুভম ঘোষ এবং পুত্রবধূ পূজা ঘোষকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধনগর এলাকার বাসিন্দা আঁখি ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ছেলে শুভম ঘোষ ও পুত্রবধূ পূজা ঘোষের সঙ্গে বসবাস করতেন। অভিযোগ, পোস্ট অফিসে আঁখি ঘোষের কিছু সঞ্চিত টাকা ছিল। সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে আঁখি ঘোষ একাধিকবার রানীরবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। পরবর্তীতে শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়ায় গত প্রায় দুই মাস তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। রবিবার ফের নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। অভিযোগ, বাড়িতে ফেরার পর ফের পুত্র ও পুত্রবধূর হাতে নির্যাতনের শিকার হন ওই বৃদ্ধা।

এরপর মঙ্গলবার রাতের কোনও এক সময় আঁখি ঘোষের মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর পরও বিষয়টি আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীদের জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। বরং রাতের মধ্যেই পুত্র ও পুত্রবধূ নিজেদের উদ্যোগে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে মৃতদেহ সৎকার করে ফেলেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বুধবার সকালে খবর পেয়ে মৃতার এক নিকট আত্মীয় বাড়িতে ছুটে আসেন। তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, টাকার জন্য আঁখি ঘোষকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

ওই আত্মীয়ের অভিযোগ, মৃতদেহ সৎকারের পর রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ তাদের ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আগে খবর দেওয়া হলে আত্মীয়স্বজনরা বাড়িতে এসে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে পারতেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পারতেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে মৃতদেহ সৎকার করে দেওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

ঘটনাটি জানাজানি হতেই বুধবার সকালে বৃদ্ধনগর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। খবর পেয়ে রানিরবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি মৃতার পুত্র শুভম ঘোষ ও পুত্রবধূ পূজা ঘোষকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

এদিকে, মৃতদেহ ইতিমধ্যেই সৎকার করে দেওয়া হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বৃদ্ধার মৃত্যুর আগে তাঁর উপর আদৌ কোনও শারীরিক নির্যাতন হয়েছিল কি না, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং কেন আত্মীয়স্বজনকে না জানিয়ে রাতের মধ্যেই দেহ সৎকার করা হলো—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তবে হত্যার অভিযোগের সত্যতা, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ঘটনাকে ঘিরে রানিরবাজার থানার তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *