শিশু সুরক্ষায় ত্রিপুরায় প্রথমবার কনক্লেভ

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর : শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজ্যে প্রথমবারের মতো শিশু অধিকার ও সুরক্ষা কনক্লেভ আয়োজন করল ত্রিপুরা রাজ্য শিশু অধিকার কমিশন। বুধবার কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এই কনক্লেভে রাজ্যের আট জেলার শিশু সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও আধিকারিকরা অংশ নেন। শিশুদের অধিকার রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে দিনভর বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কনক্লেভে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্যরা, চাইল্ড হেল্পলাইনের প্রতিনিধিরা, ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার, জেলা সমাজ শিক্ষা দফতরের ইন্সপেক্টর তথা ডিআইও-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্য শিশু অধিকার কমিশনের মেম্বার সেক্রেটারি মাধব পাল, সদস্যা চামেলী সাহা, গৌতম শীল ও মনিকা দেবনাথ প্রমুখ।

এদিনের কনক্লেভে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি শিশু পাচার প্রতিরোধ, সীমান্তবর্তী এলাকার শিশুদের নিরাপত্তা, অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিশুদের সামনে থাকা বিভিন্ন সামাজিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থাগুলির মধ্যে আরও সমন্বয় কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ত্রিপুরা রাজ্য শিশু অধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা জানান, শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো এই ধরনের কনক্লেভের আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যের শিশুদের জন্য আরও কার্যকর ও সমন্বিত সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কীভাবে আরও ভালোভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কনক্লেভে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিশুদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা শুধু একটি দফতর বা সংস্থার দায়িত্ব নয়, এর জন্য সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন জয়ন্তী দেববর্মা। তিনি জানান, ত্রিপুরাকে বাল্যবিবাহমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট এবং চাইল্ড হেল্পলাইনও এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চেয়ারপার্সন জানান, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে শতাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পথনাটক ও পুতুল নাচের মতো বিভিন্ন প্রচারমূলক মাধ্যমও ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এবার আরও তৃণমূল স্তরে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে পঞ্চায়েত স্তরে বাল্যবিবাহমুক্ত পঞ্চায়েত গঠনের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট দফতর এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিশু অধিকার কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কনক্লেভে শিশুদের সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শিশুদের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *