বক্সনগরে গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার পাচারকারী

বক্সনগর, ১০ সেপ্টেম্বর : সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় সাফল্য পেল যাত্রাপুর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গভীর রাতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা ও নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করল পুলিশ। অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে মাদক পাচারকারীকে। একইসঙ্গে মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি বিলাসবহুল  গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপাহীজলা জেলার কাঁঠালিয়া ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা লালটিলা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার, গভীর রাতে আনুমানিক দেড়টা নাগাদ যাত্রাপুর থানায় গোপন সূত্রে খবর আসে যে, নির্ভয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা লালটিলা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল হোসেনের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদক মজুত করে রাখা হয়েছে। খবরটি পাওয়ার পর আর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত অভিযানের প্রস্তুতি নেয় পুলিশ।

সোনামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিজিৎ দাস এবং যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থ নাথ ভৌমিকের যৌথ নেতৃত্বে পুলিশ ও টিএসআর-এর একটি বিশেষ দল গভীর রাতেই লালটিলার উদ্দেশে রওনা দেয়। অভিযানে ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর অমর কিশোর দেববর্মা, রুমি আক্তার-সহ পুলিশ ও টিএসআর-এর অন্যান্য জওয়ানরা।

অভিযানকারী দল গোপনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুলাল হোসেনের বাড়ি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। তল্লাশির একপর্যায়ে অভিযুক্তের বসতঘর থেকে উদ্ধার হয় ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম শুকনো গাঁজা। এরপর বাড়ির আঙিনায় পার্ক করে রাখা গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটির নম্বর টিআর০৭এইচ০৫৪১। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় আরও ৭৬ গ্রাম নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাদক সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যেই মজুত করা হয়েছিল। যদিও মাদকের উৎস এবং কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকেই দুলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে উদ্ধার হওয়া গাঁজা, ইয়াবা এবং মাদক পাচারে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে যাত্রাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

যাত্রাপুর থানার ওসি পার্থ নাথ ভৌমিক জানান, ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এনডিপিএস-এর নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে সোনামুড়া মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদক পাচারের নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকের উৎস, পাচারচক্রের অন্যান্য সদস্য এবং মূল নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

যাত্রাপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত মূল চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *