বিলোনিয়া, ৩০ আগস্ট : দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার হৃষ্যমুখ ব্লকের নলুয়া অভয়নগর দাসপাড়া এলাকায় বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি প্রাইভেট গাড়ি থেকে প্রায় ৫২ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের আঁচ পেয়ে গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
জানা গেছে, রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টা নাগাদ নলুয়া অভয়নগর দাসপাড়া এলাকায় বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ নজরদারি চলছিল। সেই সময় সন্দেহজনক গতিবিধির একটি প্রাইভেট গাড়ি নজরে আসে। গাড়িটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেটিকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। গাড়িটির নম্বর টিআর০১এএআর০৬০৮।
গাড়িটি থামার পর পরিস্থিতি বুঝে চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ ও বিএসএফ জওয়ানরা গাড়িটিতে তল্লাশি চালান। তল্লাশির সময় গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা। ওজন করে মাদকের পরিমাণ প্রায় ৫২ কেজি বলে জানা যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাব্রুম মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে ফরেন্সিক দলের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উদ্ধার হওয়া মাদকের নমুনা সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় ফরেন্সিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
চালক পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি আরও রহস্যের সৃষ্টি করেছে। গাড়িটির মালিকানা, চালকের পরিচয় এবং এই মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। গাড়িটির নথিপত্র এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, নাকা চেকিং ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে একটি গাড়ি চলাচল করছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক পাচার রুখতে আরও জোরদার নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে শ্রীনগর আউটপোস্ট পুলিশের তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, গাঁজা-সহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ কারবার যুব সমাজের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই শুধু মাদক উদ্ধার নয়, এর পিছনে থাকা মূল পাচারচক্রের সন্ধান বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের আরও বক্তব্য, যুব সমাজকে নেশার কবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত অভিযান, সীমান্তবর্তী এলাকায় কড়া নজরদারি এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপই এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

