অজানা ভারতকে জানার জানালা ‘মন কি বাত’, প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা মন্ত্রী সুধাংশুর

আগরতলা, ৩০ আগস্ট : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অজানা তথ্য, সাফল্যের কাহিনী ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগকে প্রশংসা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুধাংশু দাস। একইসঙ্গে দেশের নানা প্রান্তের মানুষের জীবনযাত্রা ও সাফল্যের কথা তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

চলতি আগস্ট মাসের শেষ রবিবার, ৩০ আগস্ট সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শ্রবণের আয়োজন করা হয়। এরই অঙ্গ হিসেবে ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কৃষ্ণনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ নম্বর বুথের উদ্যোগে ‘মন কি বাত’ শ্রবণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। তিনি স্থানীয় গ্রামবাসী ও যুবকর্মীদের সঙ্গে বসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, ‘মন কি বাত’ শুধুমাত্র একটি বক্তব্যের অনুষ্ঠান নয়, এটি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাঁর দাবি, এই অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কর্মকাণ্ড, সাফল্য এবং বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরছে। ফলে দেশের এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের বহু অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারছেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ১৩৭তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ইতিহাস, রাজা-মহারাজাদের প্রসঙ্গ এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে কীভাবে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজকর্ম এগিয়ে চলেছে, সে সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অবহিত করেছেন।

বিশেষ করে মহিলাদের স্বনির্ভরতার প্রসঙ্গও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান সুধাংশু দাস। ফুল ও ফলের চাষসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মহিলারা কীভাবে নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন, সেই সাফল্যের কাহিনীও ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিন স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেছেন বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর কথায়, পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ ভারত গড়ার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আসন্ন জন্মাষ্টমী, বিশ্বকর্মা পূজা সহ বিভিন্ন উৎসবের সময় দেশীয় পণ্য ও স্থানীয় শিল্পীদের তৈরি সামগ্রীর প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান সুধাংশু দাস। তিনি বলেন, ‘লোকাল ফর ভোকাল’-এর ভাবনাকে সামনে রেখে স্থানীয় পণ্য ব্যবহারে জোর দিলে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর ও উৎপাদকরা আরও উপকৃত হবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভা, উদ্যোগ, ঐতিহ্য ও সাফল্যের কাহিনীকে ‘মন কি বাত’-এর মতো একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গোটা দেশের সামনে তুলে ধরা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর ফলে একদিকে যেমন দেশবাসীর মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন কিছু করার জন্য মানুষ অনুপ্রাণিতও হচ্ছেন।

এই কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অজানা তথ্য ও মানুষের সাফল্যের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী সুধাংশু দাস।

এদিন কৃষ্ণনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০ নম্বর বুথে আয়োজিত ‘মন কি বাত’ শ্রবণ অনুষ্ঠানে এলাকার বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী ও যুবকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সকলে একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন এবং অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *