আগরতলা, ১৫ জুলাই : মানসিকভাবে অসুস্থ যুবককে চোর সন্দেহে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আমতলি থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা যুবকের নাম গোবিন্দ দাস। তাঁর বাড়ি আমতলি থানার অন্তর্গত কাঁঠালতলি এলাকায়। পরিবারের দাবি, গোবিন্দ পূর্বে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। তবে কয়েক বছর আগে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হওয়ার পর থেকে মাঝে মধ্যে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা বিশেষভাবে তাঁর দেখভাল করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে হঠাৎ করেই গোবিন্দ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে ফিরিয়ে আনলেও পরে গভীর রাতে তিনি ফের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। ওই সময় এলাকায় মোবাইল পেট্রোলিংয়ে থাকা আমতলি থানার পুলিশ তাঁকে রাস্তায় দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, মানসিক অবস্থার কারণে গোবিন্দ তখন নিজের পরিচয় বা ঠিকানা জানাতে সক্ষম ছিলেন না।
গোবিন্দের পরিবারের অভিযোগ, এরপর পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ও কালশিটে দাগ দেখা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে রেখে পুলিশ চলে যায় এবং স্থানীয় এক ব্যক্তির স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, ওই অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে বুধবার তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মানবাধিকার সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে আমতলি থানার পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

