আগরতলা, ১৪ জুলাই: ভারতের জনগণনা-২০২৭-কে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব করে তুলতে এবার প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ‘সেলফ-এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার ব্যবস্থা। এর ফলে দেশের যেকোনও ভারতীয় নাগরিক ঘরে বসেই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নিজের বাড়ি ও পরিবারের প্রাথমিক তথ্য জনগণনা দফতরের কাছে জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ডাঃ বিশাল কুমার সাংবাদিক সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
পশ্চিম জেলা শাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ডাঃ বিশাল কুমার বলেন, ভারতের জনগণনা-২০২৭-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ হিসেবে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘হাউজ লিস্টিং’ বা বাড়ি তালিকাভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া চালানো হবে। এই পর্যায়ে প্রতিটি বাড়ির গঠন, পরিকাঠামো এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
তিনি জানান, এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এবং বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে ‘সেলফ-এনুমারেশন’ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে পারবেন। এর জন্য আগামী ১৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে।
জেলা শাসক জানান, অনলাইন ফর্মে মোট ৩৪টি কলাম বা প্রশ্ন থাকবে। ফর্মটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারেন। বাড়ির মেঝের ধরন, দেওয়ালের গঠন, ছাদের স্থায়িত্ব, পানীয় জলের উৎস, বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন সাধারণ তথ্য এই ফর্মে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই জনগণনার প্রাথমিক ডাটাবেস তৈরি করা হবে।
ডাঃ বিশাল কুমার বলেন, “এই অনলাইন উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের মধ্যে জনগণনা নিয়ে থাকা বিভ্রান্তি বা ভুল ধারণা দূর করা এবং তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। রিয়েল-টাইম ডেটা এন্ট্রির ফলে তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের কাজ অনেক সহজ হবে।”
তিনি আরও জানান, যদিও স্ব-গণনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তবুও ১ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ জন এনুমারেটর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ করবেন। অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্যও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট এনুমারেটররা যাচাই করবেন।
সরকারি কর্মচারীদের এই অনলাইন ব্যবস্থা ব্যবহারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও জানান জেলা শাসক। তাঁর মতে, সরকারি কর্মীরা এই উদ্যোগে অংশ নিলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা ও অংশগ্রহণের হার বাড়বে।
জনগণনা সংক্রান্ত যেকোনও তথ্য, নির্দেশিকা বা সহায়তার জন্য ভারত সরকারের সরকারি ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল অনুসরণ করার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি কোনো সমস্যা, অভিযোগ বা প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিলে জেলার সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা প্রশাসনের নজরে আনার আহ্বান জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্ব-গণনার সুযোগ চালুর মাধ্যমে ভারতের জনগণনা ব্যবস্থা নতুন যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। এতে যেমন সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় কমবে, তেমনি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে। জনগণনা-২০২৭-এ এই নতুন উদ্যোগ দেশের তথ্যভাণ্ডারকে আরও নির্ভুল ও আধুনিক করে তুলবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

