শান্তিরবাজার, ১ জুলাই : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার পুর পরিষদ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, আধুনিকীকরণ এবং নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বুধবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও সম্ভাব্য উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করলেন প্রশাসন ও পুর পরিষদের প্রতিনিধিদের একটি দল। শহরের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলি ঘুরে দেখে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
জানা গেছে, শান্তিরবাজারকে আরও পরিকল্পিত ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে এদিন প্রতিনিধি দল শান্তিরবাজার মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ, নতুন মোটরস্ট্যান্ড নির্মাণ প্রকল্প, পুরনো মোটরস্ট্যান্ড এলাকা, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বাজার এলাকায় নতুন স্টল নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয় এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে শহরের যানজট নিরসন, যানবাহন চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করা, বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং নাগরিকদের সুবিধা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, শান্তিরবাজার মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুলে আসন্ন দুর্গাপূজার আগে অথবা পূজার পরেই স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। স্টেডিয়াম চালু হলে এলাকার ক্রীড়া পরিকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে এবং যুব সমাজের খেলাধুলার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়াও শহরের বাজার এলাকাকে আধুনিক রূপ দিতে নতুন স্টল নির্মাণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন মোটরস্ট্যান্ড চালু হলে যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিনের পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার পুর পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সত্যব্রত সাহা, শান্তিরবাজার মহকুমাশাসক তরুণ কান্তি সরকার, পূর্ত দফতরের এসডিও প্রবীর বরণ দাস, ব্লক ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য তথা সমাজসেবী দেবাশীষ ভৌমিক, সমাজসেবী অমল দেবনাথসহ প্রশাসন ও পুর পরিষদের অন্যান্য আধিকারিক এবং প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, শহরের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে একাধিক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শহরের সামগ্রিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশা, পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন হলে শান্তিরবাজার পুর এলাকার চেহারা বদলে যাবে। নাগরিক পরিষেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

