খার্চি পুজো ও মেলাকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু, নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় বিশেষ জোর

আগরতলা, ২২ জুন : ত্রিপুরার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব খার্চি পুজো ও মেলাকে সুষ্ঠু এবং সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই থেকে খয়েরপুরস্থিত চতুর্দশ দেবতা মন্দির প্রাঙ্গণে শুরু হতে চলেছে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী খার্চি পুজো ও মেলা। এই উপলক্ষয়ে সোমবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসকের কনফারেন্স হলে প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খার্চি পুজো ও মেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি এবং মেলা কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে এবারের খার্চি পুজো ও মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেলা চলাকালীন প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী বলেন, “এক সময় খার্চি পুজো মূলত রাজপরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীকালে তা জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। খার্চি পুজো আজ শুধু ত্রিপুরার নয়, সারা দেশের পরিচিত এক ধর্মীয় উৎসব।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখন খার্চি পুজোর নাম জানেন। ফলে এই উৎসবকে সফলভাবে আয়োজন করার ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বও অনেক বেড়ে গেছে।”

চতুর্দশ দেবতা মন্দিরের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন রতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, পর্যটন দফতরের উদ্যোগে মন্দিরকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। এর ফলে ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রেও মন্দিরের আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, খার্চি মেলার জন্য আলাদা কোনও সরকারি তহবিল নেই। মূলত স্টল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমেই মেলার ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এছাড়া মন্দির ও মেলা প্রাঙ্গণের পরিসর সীমিত হয়ে আসায় ভবিষ্যতে স্থান সম্প্রসারণের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এদিন তিনি আরও জানান, মেলা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে খার্চি পুজো ও মেলার উদ্বোধন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও খার্চি পুজো ও মেলাকে ঘিরে রাজ্যসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রশাসন ও মেলা কমিটি এখন থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *