স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণআন্দোলনের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর, চালু হল ‘স্বচ্ছতা অ্যাপ’

আগরতলা, ২২ জুন : পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে স্বচ্ছতাকে গণআন্দোলনের রূপ দেওয়ার আহ্বান জানালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। সোমবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধি সংক্রান্ত কর্মশালার উদ্বোধন করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক কর্তব্য। এদিন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বচ্ছতা অ্যাপ’-এরও সূচনা করেন।

নগর উন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব মিলিন্দ রামটেক, আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার সাজু ওয়াহিদসহ বিভিন্ন নগর সংস্থার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

কর্মশালার উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’ এখন একটি বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। স্বচ্ছতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বর্তমানে আইনের আওতায় এসেছে। ফলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আইন প্রয়োগ করতেও প্রশাসন পিছপা হবে না।

ডাঃ সাহা বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্জ্যকে পৃথকীকরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ‘ওয়েট’, ‘ড্রাই’, ‘স্যানিটারি’ এবং ‘স্পেশাল কেয়ার’—এই চার ধরনের বর্জ্য পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ঘর থেকেই বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তাঘাট, নর্দমা বা খোলা জায়গায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা, নর্দমা জ্যাম করে রাখা এবং পরিবেশ দূষণের মতো প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এসব বিষয়ে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “স্বচ্ছতা মানুষের মন-মানসিকতার সঙ্গে জড়িত। জনসাধারণের মধ্যে যদি স্বচ্ছতার সংস্কৃতি গড়ে না ওঠে, তাহলে আইন প্রয়োগের প্রয়োজন পড়বে।”

তিনি জানান, রাজ্য সরকার পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে প্রশাসনের একার পক্ষে এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে যুক্ত করে স্বচ্ছতাকে একটি গণআন্দোলনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এজন্য ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির ওপরও জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘স্বচ্ছতা অ্যাপ’-এর উদ্বোধন। মুখ্যমন্ত্রী বোতাম টিপে এই অ্যাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। প্রশাসনের দাবি, এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত অভিযোগ, বর্জ্য অপসারণের সমস্যা কিংবা অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা সম্পর্কিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। এতে পরিষেবা ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মশালায় রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি, আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীরা অংশ নেন। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধির কার্যকর বাস্তবায়ন, বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যে স্বচ্ছতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বার্তা দেওয়া হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *