আগরতলা, ২১ জুন : শহর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগরতলা পুর নিগমের উদ্যোগে রাজধানীর ব্যস্ততম মন্ত্রী বাড়ি রোড এলাকায় প্রায় ৫০-৬০ বছর পুরোনো বেশ কয়েকটি দোকান ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে এলাকাজুড়ে উচ্ছেদ ও ভাঙার কাজ চলতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা বহু দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী এই উদ্যোগের ফলে প্রভাবিত হলেও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর তাঁরা স্বেচ্ছায় দোকান খালি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, কয়েকদিন আগে আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে তাঁদের দোকান খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তাঁরা বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং আগরতলা পুর নিগমের মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়টি তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনাকালে মুখ্যমন্ত্রী ও পুর নিগম কর্তৃপক্ষ তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, যেসব ব্যবসায়ী এই প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এই আশ্বাস পাওয়ার পরই অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়ে নিজেদের দোকানপাট স্বেচ্ছায় ভেঙে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণ ব্যবসায়ী জানান, তাঁদের অনেকের দোকান কয়েক দশক ধরে এই এলাকায় ছিল এবং ওই ব্যবসার উপর নির্ভর করেই পরিবার চলত। তাই দোকান হারানোর আশঙ্কায় প্রথমদিকে উদ্বেগ তৈরি হলেও সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস পাওয়ায় তাঁরা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুর নিগম সূত্রে জানা গেছে, আগরতলা শহরকে আরও আধুনিক, যানজটমুক্ত ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রী বাড়ি রোড এলাকায় রাস্তা সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যায়নের কাজের সুবিধার্থেই পুরনো দোকানগুলি অপসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষও এর সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, উচ্ছেদ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। প্রশাসনের উপস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে ভাঙার কাজ পরিচালিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাঁদের জীবিকা নির্বাহে কোনও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা না হয়।

