আগরতলা, ২১ জুন : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সফল ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আগরতলা পুর নিগমের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে রবিবার মেগা স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। মানবসেবামূলক এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক রক্তদাতা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা ৭-রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দীপক মজুমদার, সদর শহর জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কর্পোরেটর অলক রায়, মণ্ডল সভাপতি শ্যামল দে এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে রক্তদান শিবিরের শুভ সূচনা করেন। পরে তাঁরা শিবির পরিদর্শন করে রক্তদাতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।
শিবির পরিদর্শন শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফল ১২ বছরের শাসনকাল উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি জানান, ৩৯ নম্বর পুর ওয়ার্ডের উদ্যোগে এটি পঞ্চম রক্তদান শিবির, যা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, “রক্তদান একটি মহৎ দান। একজন মানুষের দেওয়া রক্ত অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এই মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, রক্ত কোনও কারখানায় উৎপাদিত হয় না কিংবা বাজারে পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র মানুষের শরীর থেকেই রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব। তাই জরুরি সময়ে রক্তের চাহিদা পূরণে স্বেচ্ছায় রক্তদানের কোনও বিকল্প নেই।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টানা তিনবার সরকার গঠন করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনকল্যাণের পথে এগিয়ে চলেছে। সেই উন্নয়নযাত্রার অংশ হিসেবেই সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবসেবার মতো উদ্যোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি রাজ্যের মানুষের মানবিক মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ত্রিপুরাবাসী বরাবরই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রক্তদানের মতো কর্মসূচি সেই মানবিক চেতনাকে আরও সুসংহত করে। যারা এখনও রক্তদান সম্পর্কে সচেতন নন বা অনীহা প্রকাশ করেন, তাঁদেরও এগিয়ে এসে এই মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা দিতে মুখ্যমন্ত্রীসহ উপস্থিত অতিথিরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। রক্তদান ও বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মানবসেবা এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরাই ছিল এদিনের কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই রক্তদান শিবিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজকদের মতে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

