জাতীয় শিক্ষানীতির ছয় বছরের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ত্রিপুরা এডুকেশন কনক্লেভ

আগরতলা, ১২ অক্টোবর  : জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বাস্তবায়নে ত্রিপুরা রাজ্য কতটা এগিয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে কী কী সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং কোথায় কোথায় রয়ে গিয়েছে ঘাটতি—এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার লক্ষ্যে আগামী ১৩ ও ১৪ অক্টোবর আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুই দিনব্যাপী ‘ত্রিপুরা এডুকেশন কনক্লেভ-২০২৬’। বিদ্যা ভারতী শিক্ষা সমিতির ত্রিপুরা শাখা এবং মহারাজা বীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শিক্ষা সম্মেলনে জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন, বর্তমান অগ্রগতি এবং আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সোমবার আগরতলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যা ভারতী শিক্ষা সমিতির ত্রিপুরা শাখার পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষানীতির প্রভাব পর্যালোচনা করার পাশাপাশি বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলার লক্ষ্যে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে দেশে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রবর্তনের পর ইতিমধ্যে ছয় বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ত্রিপুরায় শিক্ষানীতির বিভিন্ন দিক কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং নীতির সুফল শিক্ষার্থীদের কাছে কতটা পৌঁছেছে, তা সম্মেলনে আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠবে।

আগামী ১৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রাজ্যের রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যা ভারতীর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংগঠনমন্ত্রী ডঃ পবন তিওয়ারি।

সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরায় জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নের বর্তমান পরিস্থিতি, এখনও পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি এবং আগামী পাঁচ বছরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বিশেষ করে বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ যাবৎকালের সাফল্য পর্যালোচনা, বাস্তবায়নের পথে থাকা বিভিন্ন সমস্যা ও ঘাটতি চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আয়োজকদের লক্ষ্য, ২০৩০ সালকে সামনে রেখে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোড ম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। এর মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতির বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে।

এই শিক্ষা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় অংশ নিতে বহিঃরাজ্য থেকে পাঁচজন রিসোর্স পার্সন উপস্থিত থাকবেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থার মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।

আগামী ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলনের সমাপন অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন অরিন্দম লোধ, ইকফাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ফরেনসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের।

জাতীয় শিক্ষানীতির ছয় বছরের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে ত্রিপুরার শিক্ষাক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির পথ নির্ধারণের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দুই দিনের এই সম্মেলনে আলোচনার মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চিত্র উঠে আসার পাশাপাশি আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিশা মিলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *