আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর : পণের দাবিতে গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের পর বিষ পান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠল স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সিধাই থানাধীন মোহনপুর এলাকায়। মৃত গৃহবধূর নাম সোনাই দে। বুধবার গভীর রাতে জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে মোহনপুর এলাকায় সোনাই দে ও রাকেশ শীল পালিয়ে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে সামাজিকভাবে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেই সময় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে বিয়ের সামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে সোনাইয়ের উপর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন শুরু হয়।
পরিবারের দাবি, নির্যাতনের কারণে বিয়ের পর ছয় মাসের মধ্যে দুই মাসও সোনাই নিয়মিতভাবে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে পারেননি। প্রায়ই তাঁকে বাপের বাড়িতে চলে আসতে হতো। পরে পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে-সুজিয়ে তাঁকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠাতেন। কিন্তু অভিযোগ, কয়েকদিন যেতে না যেতেই ফের তাঁর উপর নির্যাতন শুরু হতো।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার সকালে রান্নার বিষয়কে কেন্দ্র করে সোনাইয়ের সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বামী রাকেশ শীল এবং তাঁর মা সোনাইকে মারধর করতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ। এক পর্যায়ে শাশুড়ি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং স্বামী ঘরে থাকা কীটনাশক জাতীয় ওষুধ তাঁর মুখে ঢেলে দেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার খবর পেয়ে সোনাইয়ের মা দ্রুত মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ছুটে যান। সেখানে মেয়েকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি তাঁকে উদ্ধার করে মোহনপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার গভীর রাতে সোনাই দে-র মৃত্যু হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই সোনাইয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। সেই সময় সুযোগ বুঝে তাঁর স্বামী রাকেশ শীল এবং শ্বশুর জিবিপি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি পরিবারের। এরপর থেকেই রাকেশের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃতার পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্বামী রাকেশ শীল, তাঁর বাবা এবং মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন সোনাইয়ের বাপের বাড়ির সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পণের দাবিতে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে সোনাইকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

