ত্রিপুরায় গড়ে উঠবে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়, চলছে উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া

আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর : ত্রিপুরায় গড়ে তোলা হবে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য বিধানসভা ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

এদিন রাজধানীর এডি নগরে নবনির্মিত আরবান পলি ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নবনির্মিত আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের ভবনেরও ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন তিনি। মূল অনুষ্ঠানটি হয় ক্যাম্পের বাজার আরবান পলি ক্লিনিক প্রাঙ্গণে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনা রানি সরকার, রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, জেলাশাসক বিশাল কুমার সহ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য, সুলভ এবং মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াকে রাজ্য সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরকে প্রায়োরিটি সেক্টর হিসেবে বিবেচনা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কাজ করছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আরবান পলি ক্লিনিক ও আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এডি নগরে নবনির্মিত আরবান পলি ক্লিনিকও সেই বৃহত্তর স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিধানসভা এবং মন্ত্রিসভার সম্মতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে কার্যকর করার ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে রাধানগর, জগহরিমুড়া, উজান অভয়নগর, ধলেশ্বর এবং রামকৃষ্ণ সেবালয় আশ্রমে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের নবনির্মিত ভবনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *