৭২ ঘন্টার অবরোধ প্রত্যাহার করল আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা

আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর  : আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের সাতটি সংগঠনের ডাকা ৭২ ঘন্টার অবরোধ দ্বিতীয় দিনেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১১ দফা দাবির ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই অবরোধ নিয়ে শনিবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। জেলাশাসক  ডাঃ বিশাল কুমারের সঙ্গে আলোচনার পর অধিকাংশ দাবির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনোর কথা জানিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবরোধ প্রত্যাহারের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ডাঃ বিশাল কুমার বলেন, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রশাসন বিস্তারিত আলোচনা করেছে। আলোচনায় তাঁদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি দাবি আত্মসমর্পণকারী ও পুনর্বাসন সুবিধাভোগীদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় সেগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা শাসক বলেন, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পুনর্বাসন কমিটির পক্ষ থেকেই ৭২ ঘন্টার অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের সমস্যাগুলি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। বিদ্যমান সরকারি নিয়ম ও বিধি মেনেই অধিকাংশ দাবি পূরণের বিষয়ে প্রশাসন সম্মতি দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব দাবি যৌক্তিক এবং প্রশাসনের আওতায় রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছনোর পরই আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর নেতারা অবরোধ প্রত্যাহারে সম্মত হন।

ডাঃ বিশাল কুমার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী প্রসেনজিৎ দেববর্মার ভূমিকাও উল্লেখ করেন। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জেলা শাসক জানান এবং তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের পুনর্বাসনসহ মোট ১১ দফা দাবিতে সাতটি সংগঠন যৌথভাবে ৭২ ঘন্টার অবরোধের ডাক দিয়েছিল। অবরোধের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহণ ও জনজীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দিনেই প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা শনিবার নয়াদিল্লি থেকে ত্রিপুরায় ফিরে আসেন। রাজ্যে ফিরে তিনি আত্মসমর্পণকারী সংগঠনগুলোর সমস্যাগুলি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনার পর অবরোধ প্রত্যাহারকে রাজ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশ্বাস অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবিগুলির বাস্তবায়ন হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *