আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর : বহু প্রতীক্ষিত ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভিলেজ কমিটির নির্বাচন এবং ৫ অক্টোবর হবে ভোটগণনা। মঙ্গলবার নির্বাচনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারির পরই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। আর এই নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিল প্রধান বিরোধী দল সিপিআই(এম) তথা বামফ্রন্ট। কংগ্রেসকে পাশে না রেখে এবার সিপিআইএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি এবং সিপিআইএম(এল)—এই পাঁচ দলকে নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামফ্রন্ট।
এদিন এক সাক্ষাৎকারে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বামফ্রন্ট পাঁচটি দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে। শুধু তাই নয়, ভিলেজ কমিটির সবকটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের বাম-কংগ্রেস সমীকরণের বাইরে গিয়ে এবার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বামফ্রন্টের এই পৃথক কৌশল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সিপিআইএম(এল)-কে বামফ্রন্টের নির্বাচনী সমীকরণে অন্তর্ভুক্ত করা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এতদিন বামফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার আলোচনায় কংগ্রেসের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এবার সেই সমীকরণে পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট হচ্ছে।
তবে পাঁচ দলের মধ্যে কোন দল কতটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, সে বিষয়ে এদিন বিস্তারিত কিছু জানাননি বিরোধী দলনেতা। ফলে আসন সমঝোতা নিয়ে এখনও জল্পনা রয়েছে। তবে জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাঁচ দলকে নিয়েই একটি অভিন্ন নির্বাচনী মঞ্চ তৈরি করে ভিলেজ কমিটির ভোটে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বামফ্রন্ট।
এদিকে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কেন এই নতুন সমীকরণ, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠছে। জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্যের ক্ষেত্রে কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে বামফ্রন্টের এই অবস্থান নিঃসন্দেহে আলাদা রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। যদিও কংগ্রেসকে দূরে রেখে সিপিআই(এম)-এর এই সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এদিন বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি জিতেন্দ্র চৌধুরী।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ৫৬ ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করে এককভাবে লড়াই করেছিল সিপিআই(এম)। কিন্তু সেই নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি দল। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে কংগ্রেসকে বাইরে রেখে সিপিআই(এম) নেতৃত্বে পাঁচ দলের জোট কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচন টিটিএএডিসি এলাকার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির—সব পক্ষই ইতিমধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। প্রার্থী বাছাই, আসন সমঝোতা এবং স্থানীয় স্তরে ভোটের সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ।
একদিকে শাসক শিবিরের শক্তি, অন্যদিকে তিপ্রা মথার সাংগঠনিক প্রভাব—এর মাঝেই বামফ্রন্টের পাঁচ দলের এই নতুন জোট কতটা ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়, সেটাই হবে বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে সিপিআইএম(এল) সঙ্গে নিয়ে বামফ্রন্টের এই নতুন পরীক্ষার ফলাফল রাজনৈতিকভাবে কতটা লাভজনক হয়, তার উত্তর মিলবে ২৮ সেপ্টেম্বরের ভোটে। আর সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল জানা যাবে ৫ অক্টোবর গণনার দিন।

