আগরতলা, ৩ আগস্ট : ত্রিপুরায় সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এবার অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের দিকেও এগুচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর। এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে।
সোমবার জাতীয় অঙ্গদান দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর প্রজ্ঞা ভবনে ‘অঙ্গদান – জীবন সঞ্জীবনী অভিযান’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। স্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এজিএমসি-র প্রিন্সিপাল ডাঃ তপন মজুমদার, জিবিপি হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডাঃ বিধান গোস্বামী, বিভিন্ন আধিকারিক, চিকিৎসক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে মণিপুরের সৃজা হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ত্রিপুরায় কিডনি প্রতিস্থাপন কর্মসূচি শুরু হয়। সেই উদ্যোগের ফলে গত দেড় বছরে রাজ্যে মোট নয়টি সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
তিনি আরও জানান, কিডনি প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে লিভার, কর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে জিবিপি হাসপাতালে স্টেট অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন গঠন করা হয়েছে। এই সংস্থার মাধ্যমে অঙ্গদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, অঙ্গদাতাদের নথিভুক্তকরণ এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা হবে।
স্বাস্থ্য সচিব জানান, অঙ্গদান একটি মহৎ মানবিক উদ্যোগ। একজন মৃত ব্যক্তির অঙ্গদানের মাধ্যমে একাধিক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অঙ্গদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিষেবাকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালে দিল্লির মোহন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এজিএমসি-র একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে আগামী দিনে মোহন ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহযোগিতায় জিবিপি হাসপাতাল ও এজিএমসিতে বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে স্বাস্থ্য দফত সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় অঙ্গদান দিবসের এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা অঙ্গদানের গুরুত্ব, মৃত্যুর পর অঙ্গদানের প্রক্রিয়া এবং সমাজে এ বিষয়ে ইতিবাচক সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই অঙ্গদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

