নন্দননগরে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যাবেন মেয়র

আগরতলা, ১৭ আগস্ট : নন্দননগর ডন বসকো স্কুলের সামনে আগরতলা পুর নিগমের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১৯ অথবা ২০ আগস্ট সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনে যাবেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র। একইসঙ্গে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি।

সোমবার নন্দননগরের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের বিষয়টি নিয়ে আগরতলা পুর নিগমের মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজেপির জনজাতি মোর্চার এক প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে মেয়রকে নন্দননগর ডন বসকো স্কুল সংলগ্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করার অনুরোধ জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও আবেদন জানানো হয়।

প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর মেয়র জানান, আগামী ১৯ অথবা ২০ আগস্ট তিনি নন্দননগর এলাকায় যাবেন। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলবেন। মেয়রের এই আশ্বাসে ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে প্রতিনিধি দল।

এদিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা জনজাতি নেতৃত্ব বিপিন দেববর্মা। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নন্দননগরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক রঙ চড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, একটি সাধারণ প্রশাসনিক বিষয়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনৈতিক ও জাতিগত ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিপিন দেববর্মা বলেন, নন্দননগরের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে জাতিগত বিভাজন তৈরির চেষ্টা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান।

তাঁর বক্তব্য, ব্যবসায়ীদের সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা উচিত। রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। মেয়রের এলাকা পরিদর্শনের পর প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নন্দননগর ডন বসকো স্কুলের সামনে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে সম্প্রতি আগরতলা পুর নিগমের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়। এবার মেয়রের সরেজমিন পরিদর্শনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *