আগরতলা, ১৯ জুলাই : মহিলাদের জন্য শর্তহীন ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিতে সোমবার রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি পালন করবে চারটি বামপন্থী নারী সংগঠন। সংগঠনগুলির অভিযোগ, ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কার্যকর করার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কার্যত নারী সংরক্ষণ বাস্তবায়নকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। তাই কোনও শর্ত ছাড়াই সংসদ ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
রবিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি (এআইডিডব্লিউএ)-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা কৃষ্ণা রক্ষিত। তিনি বলেন, আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শর্তহীন নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে দেশব্যাপী ধর্না কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নারী প্রতিনিধিরা সেখানে অংশ নেবেন।
এই সর্বভারতীয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে সোমবার ত্রিপুরাতেও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কৃষ্ণা রক্ষিত জানান, সারা ভারত গণতান্ত্রিক নারী সমিতি-র পাশাপাশি ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান উইমেন, অল ইন্ডিয়া উইমেন্স কনফারেন্স-সহ চারটি বামপন্থী নারী সংগঠন, একটি মহিলা গণসংগঠন এবং অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়ন এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে। তাঁদের একমাত্র দাবি, ডিলিমিটেশন বা অন্য কোনও শর্তের সঙ্গে না জুড়ে অবিলম্বে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে কৃষ্ণা রক্ষিত আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক-এর প্রতি কেন্দ্রের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার এসএফআই ও টিএসইউ-র উদ্যোগে একদিনের অনশন কর্মসূচি পালিত হবে বলেও তিনি জানান। বামপন্থী নারী সংগঠনগুলি ওই ছাত্র সংগঠনগুলির কর্মসূচির প্রতিও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
নারী সংরক্ষণ, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ছাত্র-যুব সমাজের স্বার্থ রক্ষার দাবিকে সামনে রেখে সোমবারের কর্মসূচিতে বৃহত্তর জনসমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি।

