।। জয় দেবনাথ।। কমলপুর, ১৫ জুলাই : পরিবেশ রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ধলাই জেলার কমলপুর মহকুমার দুর্গাচৌমুহনী আরডি ব্লকের অন্তর্গত মহাবীর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমী পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ‘বৃক্ষ বন্দনা পার্বণ’। দুর্গাচৌমুহনী পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানের উদ্যোগে এবং স্পেকট্রাম ফাউন্ডেশনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাস্তার দু’পাশে মোট ৩০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষচারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুরমা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল, দুর্গাচৌমুহনী পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান, দুর্গাচৌমুহনী ব্লকের বিডিও, প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার অসংখ্য পরিবেশপ্রেমী মানুষ। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান বলেন, “গাছ আমার মা। মা যেমন নিঃস্বার্থভাবে আমাদের জীবন, স্নেহ ও আশ্রয় দেন, তেমনি গাছও বিনিময়ে কিছু না চেয়ে আমাদের অক্সিজেন, ছায়া, ফল, বৃষ্টি এবং জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাস উপহার দেয়। তাই প্রত্যেক মানুষ অন্তত একটি করে গাছ লাগান এবং নিজের সন্তানের মতো তার যত্ন নিন। একটি গাছই একদিন অসংখ্য প্রাণের আশ্রয় হয়ে উঠবে।”
তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার প্রতি নতুন করে সচেতনতা ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ করাই যথেষ্ট নয়, প্রতিটি গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকের একটি ছোট্ট চারা আগামী দিনে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়ে মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বিধায়ক স্বপ্না দাস পালও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণের মতো বৈশ্বিক সমস্যার মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আরও বেশি করে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে মহাবীর পঞ্চায়েত এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, যুবক-যুবতী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। রাস্তার দু’পাশে রোপণ করা চারাগুলো ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সকলে।
আয়োজকদের মতে, ‘বৃক্ষবন্ধনা পার্বণ’ শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি প্রকৃতিকে ভালোবাসার সামাজিক আন্দোলন এবং পরিবেশ রক্ষার নৈতিক অঙ্গীকার। আজ যে ৩০০টি চারা মাটিতে শেকড় গেড়েছে, একদিন সেগুলোই বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়ে পথচারীদের ছায়া দেবে, পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে এবং নির্মল অক্সিজেনে ভরিয়ে তুলবে চারপাশ।
পরিবেশবিদদের মতে, নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি। সেই দিক থেকে মহাবীর পঞ্চায়েতের এই উদ্যোগ অন্যদের কাছেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
“আমরা এই পৃথিবী আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে পাইনি; আমরা এটি ধার নিয়েছি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে”—এই চেতনাকে সামনে রেখেই মহাবীর পঞ্চায়েতের মাটিতে রোপিত ৩০০টি বৃক্ষচারা আগামী দিনের একটি সুস্থ, সুন্দর, নির্মল ও সবুজ পৃথিবী গড়ার নীরব অঙ্গীকার হয়ে রইল বলে মনে অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

