আগরতলা, ২৪ জুন : রাজধানী আগরতলায় পুরনো মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি সম্পত্তি জবরদখলকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় জনতা শ্রমিক সেলের অধীন ই-রিকশা ও ইলেকট্রিক অটো সংগঠনের বিরুদ্ধে আইতরমা -র মালিকানাধীন একটি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ও জঙ্গলাকীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা এলাকাটি তারা নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করে চালক ও কর্মীদের বিশ্রামস্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারি ও আধা-সরকারি জমি দখল সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন বিষয়গুলির উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই পুরনো মোটরস্ট্যান্ড এলাকার এই জমি নিয়ে বিতর্ক প্রকাশ্যে এসেছে।
খবর অনুযায়ী, পুরনো মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় আইতরমা-র মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ জমি রয়েছে। অভিযোগ, ভারতীয় জনতা শ্রমিক সেলের ই-রিকশা ও ইলেকট্রিক অটো সংগঠনের সদস্যরা ওই জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানে অটো ও ই-রিকশা রাখার ব্যবস্থা করেছেন। ইতিমধ্যেই আইতরমা কর্তৃপক্ষ সংগঠনকে জমিটি খালি করে দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে জানিয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমিটি বহু বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। এলাকাটি জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং সেখানে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। সাধারণ মানুষের যাতায়াতও ছিল সীমিত।
সংগঠনের জনৈক নেতা জানান, নিজেদের উদ্যোগে এবং সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে তাঁরা এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন। এরপর ই-রিকশা ও ইলেকট্রিক অটো চালকদের বসার জায়গা এবং যানবাহন রাখার জন্য স্থানটি ব্যবহার করা শুরু হয়।
তাঁদের বক্তব্য, “এতদিন জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। তখন কেউ এর খোঁজ নেয়নি। আমরা পরিষ্কার করে ব্যবহার শুরু করার পরই হঠাৎ করে দাবি করা হচ্ছে এটি আইতরমা-র জমি। চালকদের স্বার্থে আমরা এই জায়গা ব্যবহার করছি।”
সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত তাঁরা জমিটি ছেড়ে দিতে রাজি নন। বরং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়ে জমিটি তাঁদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার দাবি তোলা হবে।
এদিকে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। জমিটির প্রকৃত মালিকানা, ব্যবহার ও দখল সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুরনো মোটরস্ট্যান্ড এলাকার এই জমি বিতর্ক এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সরকারি জমি রক্ষা নাকি কর্মজীবী চালকদের স্বার্থ—এই দ্বন্দ্বের মধ্যে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

