আরটিআই কর্মী প্রসেনজিৎ সাহার গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, পরিবারের পাশে সুদীপ রায় বর্মন

বক্সনগর, ২১ জুন : তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে সক্রিয় সমাজকর্মীকে গাঁজা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সিপাহীজলা জেলার মেলাঘরের পরিচিত আরটিআই কর্মী প্রসেনজিৎ সাহার গ্রেফতারির ঘটনায় এবার সরব হয়েছে কংগ্রেস। রবিবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পুরো ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে দাবি করেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে পুলিশ গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে প্রসেনজিৎ সাহার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করার দাবি করে তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঘটনার শুরু থেকেই প্রসেনজিৎ সাহা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে আসছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং তাঁর গাড়িতে গাঁজা রেখে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে রবিবার মেলাঘরের ঠাকুরপাড়ায় প্রসেনজিৎ সাহার বাড়িতে যান কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা ও কর্মী। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা নীলকমল সাহা, হাবিল মিয়া, দীপক চক্রবর্তী, লক্ষ্মণ দাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব।

প্রসেনজিৎ সাহার বাবা-মা ও স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন সুদীপ রায় বর্মন। পরিবারের সদস্যদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার পরামর্শ দেন তিনি। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ রায় বর্মন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রসেনজিৎ সাহা দীর্ঘদিন ধরে আরটিআইয়-র মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি দফতরের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আনছিলেন। এর ফলে অনেক প্রভাবশালী মহল অস্বস্তিতে পড়েছিল।

সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “প্রসেনজিৎ সাহা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে এনেছেন। সেই কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং তাঁর মুখ বন্ধ করার জন্য এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে আমাদের আশঙ্কা।”

তিনি আরও বলেন, “সত্যকে চাপা দেওয়ার জন্য যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করছি। কংগ্রেস দল আইনি ও রাজনৈতিকভাবে এই পরিবারের পাশে থাকবে।”

সুদীপ রায় বর্মনের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় মহলেও ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাংশের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন।

এদিকে পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রসেনজিৎ সাহার নির্দোষ দাবি করে চলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, একজন আরটিআই কর্মী হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ্যে আনার কারণেই তিনি চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ এখনও পর্যন্ত গাঁজা উদ্ধারের দাবিতেই অনড় রয়েছে।

সমাজকর্মী ও আরটিআই কর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়েও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে এবং আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

বর্তমানে প্রসেনজিৎ সাহার জামিনের আবেদন ও মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে পরিবার, রাজনৈতিক মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের। তদন্ত ও আদালতের রায়ের মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত এই বহুচর্চিত ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *